• হোম > বাংলাদেশ > বিদেশি ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারে পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক, এলো নতুন নীতিমালা

বিদেশি ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারে পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক, এলো নতুন নীতিমালা

  • বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৮
  • ৫৫

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোকে বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি গ্রাহকরা ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে বিদেশে অনলাইন পেমেন্ট, ভ্রমণ ব্যয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেবার মূল্য সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এর পরিচালক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সেবাখাতে বৈদেশিক বাণিজ্য সহজ করা এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নতুন নীতিমালা চালু করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার আওতায় দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

এই সুবিধার ফলে বিদেশ ভ্রমণের সময় ট্রাভেল কোটার বৈদেশিক মুদ্রাও ডিজিটাল ওয়ালেটে রাখা যাবে। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা কিংবা সরকারি সফরের ক্ষেত্রে বিদেশে নগদ ডলার বহনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং ফি, আন্তর্জাতিক সদস্যপদ নবায়ন, সফটওয়্যার ও আইটি সেবার বিল এবং অন্যান্য অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট সহজে করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে।

নতুন নীতিমালায় রপ্তানিকারক, ফ্রিল্যান্সার এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। তারা বৈধভাবে বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবের অর্থ ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তর করে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ব্যয়ও পরিশোধ করা যাবে। এতে ডিজিটাল সেবা রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা—যেমন পেপ্যাল—চালুর ঘোষণা নয়। বরং বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করবে।

গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সব ডিজিটাল ওয়ালেট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইম বা প্রায় রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আইন, অর্থপাচার প্রতিরোধ (এএমএল), সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি) এবং গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে বিদেশ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ সেবা পাবেন। একই সঙ্গে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক লেনদেন বাড়ার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14594 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 09:28:25 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh