![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাপানি ভাষায় প্রশিক্ষিত দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর দিয়েছে বাসস।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি জাপানের শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এজন্য জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং পরিবহন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানের বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রতিষ্ঠিত শিল্প পার্কের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন, চলমান ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে জাপানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।