• হোম > বাংলাদেশ > বাজারের ৭৬.৫% টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

বাজারের ৭৬.৫% টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

  • মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩০
  • ৭৪

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির অভিযোগের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসার পর এ বিষয়ে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ বিজ্ঞান গবেষণাগার (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর একজন করে বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআইকে দ্রুত এ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরের গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ২৬টি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, পাইকারি বাজার ও খুচরা দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে সেগুলোর পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের অংশগ্রহণে একটি ভোক্তা জরিপও পরিচালনা করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল-এ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-সহ কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নমুনাতেও বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি এবং কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টের পরীক্ষিত নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14549 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 05:00:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh