ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের রহস্যময় ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এই বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জেরুজালেমের একটি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল এমন গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করবে, যা থেকে বোঝানো হবে যে ইরান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ২০২০ সালে নির্মাণ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটিতে পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ পৌঁছানো হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে কোলাং পর্বতের ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সম্ভাব্য গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও এতদিন সেখানে সরাসরি পারমাণবিক তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ওই স্থাপনায় সক্রিয় পারমাণবিক কার্যক্রমের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সেখানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনে ওই স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে সংরক্ষিত বলে ধারণা করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেরুজালেমের সূত্র আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। ইসরায়েলের মতে, এসব তথ্য প্রমাণ করে যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালেও তেহরান তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাও গুরুত্ব পাবে।
ইসরায়েলের অভিযোগ, লেবানন ও গাজায় সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। এসব বিষয়েও নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন বলে জানা গেছে।