• হোম > বিদেশ > ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার এখনো শক্তিশালী, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা

ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার এখনো শক্তিশালী, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা

  • সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৩
  • ৪৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তেহরান তুলনামূলকভাবে কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সেড্রিক লেইটন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে চলমান মার্কিন হামলার পরও ইরানের হাতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং রকেট মজুত রয়েছে। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরানের মূল অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখনো অক্ষত থাকতে পারে।

সেড্রিক লেইটনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্র, সামরিক অবকাঠামো এবং বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব হামলা ইরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরান এখনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ব্যবহার করছে। এসব অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা ভবিষ্যতের সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

লেইটনের দাবি, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা সঠিক হলে, নতুন উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয় যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে সামরিক নেতৃত্ব সম্ভাব্য ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু সামরিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14501 ,   Print Date & Time: Friday, 11 September 2026, 12:38:43 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh