• হোম > দেশজুড়ে > মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়ার অভিযোগ, ডিবির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়ার অভিযোগ, ডিবির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫০
  • ৫৫

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী।

সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে স্বেচ্ছাসেবক দলের কাফরুল থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিবির দাবি, ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়। তদন্তে জানা যায়, গত ২৯ জুন হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ কয়েকজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা প্রথমে মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেন এবং পরে একটি গ্যারেজে গিয়ে অস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি নেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন একটি অস্ত্র থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হয়ে যাওয়ায় পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হয়। পরে লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুকে শনাক্ত করে অভিযুক্তরা অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২২ জুলাই অভিযুক্তরা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। পরদিন তারা আবার গ্যারেজে বৈঠক করে দুটি লোড করা পিস্তল সংগ্রহ করে। এরপর কয়েকজন মিলে হাফিজুল ইসলাম বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজন সহযোগী ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, পুলিশের গতিবিধি নজরদারি এবং হামলার পর পালাতে সহায়তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান এবং তল্লাশির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালালে বুকে গুলিবিদ্ধ হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মিরপুর-১৩ নম্বরের ওপেক্স গার্মেন্টসের পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ইউসুফ আলী নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হন।

ডিবি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14499 ,   Print Date & Time: Friday, 11 September 2026, 01:43:38 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh