• হোম > এশিয়া | বিদেশ > প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন বিল, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পথে ভারত

প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন বিল, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পথে ভারত

  • সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩৮
  • ৫০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারতে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে চলমান বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিংহ। নতুন এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলটি সংসদে উপস্থাপনের পর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও মতামতের জন্য সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

তবে বিলটি নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের সাংসদ গৌরব গগৈ দাবি করেছেন, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়; বরং সরকারের একটি লোকদেখানো পদক্ষেপ। তার অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি সরকার।

সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। তাদের হট্টগোলের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষের কার্যক্রম একাধিকবার মুলতবি করতে হয়।

অধিবেশন স্থগিত থাকাকালে সংসদ ভবনের বাইরেও বিক্ষোভ করেন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা।

ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও প্যালেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি দাবি করেন বিরোধীরা।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর প্যালেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছে এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

একই দাবি জানান কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো সন্ত্রাসী নয় যে তাদের বিরুদ্ধে প্যালেট গান ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংশোধনী বিলটি নিয়ে সংসদে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিস্তারিত আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক চাপের মুখে মোদি সরকার কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিলটি কার্যকর হওয়ার আগে সংসদীয় আলোচনায় আরও কিছু সংশোধন যুক্ত হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14491 ,   Print Date & Time: Friday, 11 September 2026, 05:04:27 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh