• হোম > বিদেশ > ভারতে এক যুবকের সঙ্গে তিন নারীর বিয়ের ভিডিও ভাইরাল, সামনে এলো আসল ঘটনা

ভারতে এক যুবকের সঙ্গে তিন নারীর বিয়ের ভিডিও ভাইরাল, সামনে এলো আসল ঘটনা

  • রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৯
  • ৬৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলার একটি মন্দিরে এক যুবকের সঙ্গে তিন তরুণীর একসঙ্গে বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সনাতন হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে এক যুবক একই অনুষ্ঠানে তিন নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, বর অগ্নিকে কেন্দ্র করে সাতপাক ঘুরছেন এবং তিন কনের সিঁথিতেই সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর শুরুতে অনেকেই এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য নির্মিত একটি রিল বা নাটকীয় কনটেন্ট বলে মনে করেছিলেন। তবে পরে ভিডিওতে থাকা চারজনই সামনে এসে দাবি করেন, এটি কোনো অভিনয় নয়; তারা পারস্পরিক সম্মতিতে বাস্তবেই বিয়ে করেছেন।

জানা গেছে, তিন নারীর নাম সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। তারা ভারতের আমরোহা জেলার ধোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজন আপন বোন এবং অপরজন তাদের খালাতো বা ফুফাতো বোন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তিনজনকেই আপন বোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সরোজ বর্তমানে বিটেক অধ্যয়ন করছেন। অন্য দুই তরুণী দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

অন্যদিকে বরের নাম বিকাশ, যিনি ‘ভিক্কু’ নামেও পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও নির্মাণে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত প্রায় ছয় মাস ধরে তাদের ভিডিওতে স্বামীর চরিত্রেও অভিনয় করছিলেন।

কেন একই যুবককে বিয়ে করলেন তিনজন?

তিন তরুণীর ভাষ্য, তারা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর আলাদা হয়ে যেতে চাননি। পরিবার যখন তাদের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

তাদের দাবি, আলাদা হয়ে জীবন কাটানোর চেয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তই তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। পরে তারা বিকাশকে একজনের পরিবর্তে তিনজনকেই বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। বিকাশও তাদের আবেগ ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এতে সম্মতি দেন।

তারা আরও বলেন, সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা ট্রোলিং, কটূক্তি ও অপমানজনক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মন্দির কর্তৃপক্ষের ভিন্ন দাবি

ভিডিওটি হাসানপুর এলাকার মা চামুন্ডা মন্দিরে ধারণ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

তাদের বক্তব্য, ভিডিও ধারণের সময় মন্দিরে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছিল। সে সময় সেখানে কোনো পুরোহিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ওই মন্দিরে এমন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে বলে তাদের জানা নেই।

আইনি ও সামাজিক বিতর্ক

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভারতে সামাজিক, ধর্মীয় ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই বিয়ের বৈধতা ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।

সমালোচনার জবাবে তিন নারীর একজন হিন্দু পৌরাণিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে বহু রাজার একাধিক স্ত্রী ছিলেন। তাই তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে অপমান বা বিদ্রূপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে বর্তমান ভারতীয় আইন অনুযায়ী বিষয়টি ভিন্ন। ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বা একাধিক বিয়ে বৈধ নয়। একই সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-এর ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বহুবিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না বা বিয়েটি আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14436 ,   Print Date & Time: Friday, 11 September 2026, 03:11:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh