![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইডিএফ ঋণে নতুন কড়াকড়ি, রফতানি আয় দেশে না আনলে মিলবে না অর্থায়ন
রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে ব্যর্থ রপ্তানিকারক কিংবা যাদের ইডিএফের বকেয়া দায় পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাধারণ ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে, তারা আর ইডিএফের অর্থায়ন সুবিধা পাবেন না।
একই সঙ্গে এতদিন বিভিন্ন সময়ে জারি করা ইডিএফ-সংক্রান্ত সব নির্দেশনা একত্র করে একটি সমন্বিত মাস্টার সার্কুলার প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সুদের হার, ঋণের মেয়াদ, পুনরর্থায়ন, অর্থায়নের সীমা এবং পরিচালনাগত বিভিন্ন বিধান হালনাগাদ করা হয়েছে।
সুদের হার নির্ধারণে নতুন নিয়ম
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ইডিএফ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হবে ছয় মাসের বেঞ্চমার্ক হারের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেঞ্চমার্ক হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ সুদে এ তহবিল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রফতানিকারকদের কাছ থেকে বেঞ্চমার্ক হারের সর্বোচ্চ ১.৫০ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ আদায় করতে পারবে।
ঋণের মেয়াদ বহাল, তবে বাড়ানোর সুযোগ থাকবে
ইডিএফ ঋণ পরিশোধের সাধারণ মেয়াদ ১৮০ দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
যোগ্যতার শর্ত আরও কঠোর
মাস্টার সার্কুলারে ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ রপ্তানিকারক কিংবা যাদের ইডিএফ ঋণ পরে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাধারণ ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে, তারা নতুন করে ইডিএফ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
তবে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক যদি আটকে থাকা রফতানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসকাউন্ট কমিটির মাধ্যমে বিশেষ অব্যাহতি পান, তাহলে তারা পুনরায় ইডিএফ সুবিধার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।
অর্থায়নের সীমা অপরিবর্তিত
ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র (এলসি) এবং বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে আগের অর্থায়ন সীমা বহাল রাখা হয়েছে।
- ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় খাতভেদে সর্বোচ্চ ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
- বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে অর্থায়নের সীমা সর্বনিম্ন ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্ত হয়েছে নতুন পুনরর্থায়ন সুবিধা
নতুন মাস্টার সার্কুলারে একটি অতিরিক্ত সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে খাত নির্বিশেষে যেকোনো যোগ্য বাল্ক আমদানির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইডিএফ পুনরর্থায়ন সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে যেসব ব্যবসায়ী একই সঙ্গে বাল্ক ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি করেন, তারা কেবল একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত অর্থায়ন সীমার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এতদিন বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা সার্কুলারের মাধ্যমে ইডিএফ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হওয়ায় বাস্তবায়নে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন মাস্টার সার্কুলারের মাধ্যমে সব নির্দেশনা এক নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসায় ঋণ আবেদন, মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন এবং তহবিল পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ, সমন্বিত ও স্বচ্ছ হবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে রফতানিকারকদের সময়মতো রফতানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে ইডিএফ তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রফতানি খাতে জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলাও আরও শক্তিশালী হবে।