![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবায় আকিজ গ্রুপ, কর্পোরেট ভ্রমণ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নতুন দিগন্ত
দেশের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার চার্টার বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আকিজ গ্রুপ। কর্পোরেট ভ্রমণ, পর্যটন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম, ব্যক্তিগত যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসা পরিবহন সেবার জন্য গ্রাহকদের কাছে উন্মুক্ত করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি হেলিকপ্টারের বহর।
আকিজ গ্রুপের এভিয়েশন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড নতুন এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর আগে হেলিকপ্টারগুলো মূলত গ্রুপটির বিভিন্ন কারখানা, হাসপাতাল এবং অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও রোগীদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হতো।
আকিজ এভিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এয়ার কমোডর (অব.) মো. মামুনুর রশীদ জানান, তাদের বহরে একটি বেল ৫০৫ এবং দুটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টার রয়েছে। পাঁচ আসনের বেল ৫০৫ মূলত রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টার দুটি যাত্রী পরিবহন ও চার্টার সেবার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বহরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের একটি অংশ মেটানো সম্ভব হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য এখনো জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
মামুনুর রশীদ বলেন, “আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর নিশ্চিত করা। সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য আমরা এই ব্যবসায় নামিনি।”
তিনি আরও জানান, আকিজ এভিয়েশন বর্তমানে খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালনা করছে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সেবার মাধ্যমে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত ভ্রমণে বাড়ছে হেলিকপ্টারের চাহিদা
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দ্রুত যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিয়ে, পারিবারিক আয়োজন এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যও অনেক পরিবার হেলিকপ্টার ভাড়া নিচ্ছে।
আকিজ এভিয়েশনের সিইও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১০টি বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার অপারেটর রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বহরে মোট হেলিকপ্টারের সংখ্যা প্রায় ২৩টি।
তবে তিনি বলেন, এ খাতে পরিচালন ব্যয় এখনো অত্যন্ত বেশি। হ্যাঙ্গার ভাড়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের উচ্চ ব্যয় বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিচালনাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
বর্তমানে দেশে হেলিকপ্টার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স, স্কয়ার এয়ার, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ, ইমপ্রেস এভিয়েশন, মেঘনা এভিয়েশন, পারটেক্স এভিয়েশন, বিসিএল এভিয়েশন, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, বিআরবি এয়ার এবং এটিএল এভিয়েশন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পোরেট ভ্রমণ, পর্যটন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। সেই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে এই খাতে নতুন সম্ভাবনারও সৃষ্টি হবে।