![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইউরোপীয় ফুটবলের গ্রীষ্মকালীন দলবদল বাজারে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আরবি লাইপজিগের আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফুটবলারকে দলে ভেড়াতে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ, ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি), ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং আর্সেনাল-এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিওমান্দেকে দলে টানার বিষয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ইতোমধ্যেই আরবি লাইপজিগের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। তরুণ এই উইঙ্গারের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত লস ব্লাঙ্কোস।
তবে আরবি লাইপজিগ সহজে তাদের অন্যতম সেরা তারকাকে ছাড়তে রাজি নয়। ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্সেল শেফার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দিওমান্দে বর্তমানে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার অংশ এবং তাকে বিক্রির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে বিভিন্ন ইউরোপীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিওমান্দে নিজে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী। সে কারণে সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে তার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দিওমান্দে। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ৩৩ ম্যাচে ১২ গোল করার পাশাপাশি ৮ থেকে ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সফল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন এই তরুণ।
তবে লাইপজিগ তাকে ছাড়তে চাইলে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে আগ্রহী ক্লাবগুলোকে। জার্মান ক্লাবটি দিওমান্দের জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ইউরো মূল্য নির্ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ শেষে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে ইতোমধ্যে লাইপজিগে যোগ দিয়েছেন দিওমান্দে। দলবদলের গুঞ্জন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশের হয়ে খেলাই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, নতুন ক্লাবে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
দিওমান্দে বলেন, “দেশের হয়ে খেলাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুব একটা ব্যবহার করি না, তাই নানা গুঞ্জনও দেখি না। তবে দল বদলের আশা করছি, এটিই স্বাভাবিক। আমার এজেন্ট বিষয়টি দেখছেন। এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দেশের হয়ে ভালো খেলা।”
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের প্রিয় ক্লাব হিসেবে পিএসজির নামও উল্লেখ করেছিলেন এই আইভরিয়ান ফুটবলার। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই পিএসজির খেলা অনুসরণ করতেন এবং তার বাবাও ক্লাবটির সমর্থক ছিলেন।
এদিকে নতুন কোচের অধীনে তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ভবিষ্যতের দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দিওমান্দেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দলবদলের বাজারে কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এখন আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করতে দিওমান্দেকে দলে নেওয়ার চেষ্টা জোরদার করেছে তারা।
তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রতিভাবান উইঙ্গার কোন ক্লাবে যোগ দেবেন, নাকি আরেকটি মৌসুম লাইপজিগেই থেকে যাবেন—তা নির্ভর করবে ক্লাবগুলোর সমঝোতা এবং ট্রান্সফার আলোচনার অগ্রগতির ওপর। ইউরোপের দলবদল বাজারে এটি যে সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।