• হোম > বাণিজ্য > চট্টগ্রামে ৭৮৩ একরজুড়ে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আসছে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ

চট্টগ্রামে ৭৮৩ একরজুড়ে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আসছে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ

  • রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২
  • ৪২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর সোমবার, শুরু হচ্ছে বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী সোমবার (২৭ জুলাই)। বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া প্রকল্পের সার্বিক পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও প্রদর্শন করা হবে।

এ সময় চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এরপর সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আয়োজন শেষ হবে।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সিইআইজেডের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধা ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে সিইআইজেড দেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানি খাতে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14404 ,   Print Date & Time: Wednesday, 9 September 2026, 01:49:16 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh