• হোম > বাণিজ্য > পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভিয়েতনাম, উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের

পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভিয়েতনাম, উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের

  • রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯
  • ৫৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিশ্বের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিকারক দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ভিয়েতনামের কাছে পিছিয়ে তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে বলে দাবি করেছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সংকট, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যাকসেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক হাসান বলেন, “বাংলাদেশকে আবারও বিশ্বে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সরকার, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তবে সর্বশেষ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতিবেদনে এখনো বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ভিয়েতনাম খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পখাতের নেতারা মনে করেন, বাস্তবে খাতটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম কঠিন সময় পার করছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণ ও অর্থায়নের সংকট, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, শিল্প উদ্যোক্তারা বর্তমানে আর্থিক সংকট, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যয় এবং পরিচালনাগত নানা সমস্যার মুখোমুখি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফ্রি অব কস্ট (FOC) আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং রপ্তানিতে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের শর্ত আরোপ করা হলে স্থানীয় শিল্পের পরিবর্তে আমদানি আরও বাড়তে পারে। তাই স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সরকারের প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে “অত্যন্ত কঠিন সময়” অতিক্রম করছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

কাস্টমসে দুর্নীতির অভিযোগ

অনুষ্ঠানে কাস্টমস বিভাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মোতি। তিনি দাবি করেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনেক ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, বছরে মাত্র ৫০ টন কাঁচামাল আমদানি করা একটি ছোট প্রতিষ্ঠানকেও লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ফাইলের কার্যক্রম এগোয় না। তিনি এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বর্তমান বিপিএএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ারও কাস্টমসকে ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে রপ্তানিকারকদের সময় ও ব্যয়—দুইই বাড়ছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১ আগস্ট বিপিএএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ২৫ জন পরিচালক প্রার্থী নিয়ে গঠিত ঐক্য পরিষদ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি মো. শাহরিয়ার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, রপ্তানিবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14400 ,   Print Date & Time: Sunday, 25 October 2026, 10:12:43 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh