![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও এখনো সে পর্যায়ে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত বার্ষিক করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি প্রতিনিধিরা বর্তমানে আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা একটি চুক্তি করতে পারলে খুশি হবে। তবে আমার মনে হয়, তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবুও আমি তাদের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের রাডার ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং দেশটির ড্রোন সক্ষমতাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সামরিক প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবুও কৌশলগত দিক থেকে ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না দেওয়া। কারণ এমন অস্ত্র তাদের হাতে গেলে তারা তা ব্যবহারে দ্বিধা করবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।