![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মাধ্যমে এ বিষয়ে থাকা সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ নিয়ে দেশে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ঘটনা, যার সঙ্গে দেশের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা জড়িত। তবে একজন রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তাই তিনি অসুস্থ হতেই পারেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই যখন লিখিতভাবে এসব বিষয় জানিয়েছেন, তখন আলাদা করে চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত কারণেই এই পদত্যাগ হয়েছে এবং সংবিধানের বিধান অনুসারেই তা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘যেদিন আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনেরও শপথ নিয়েছি। সেই সাংবিধানিক দায়িত্বই এখন পালন করছি।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও জানান, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। অতীতেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর একই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তর হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের মাধ্যমে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা বা নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।’