![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় কৃষক শক্তি। একই সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির (আংশিক) নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্য সচিব হয়েছেন কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম এবং মূখ্য সংগঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান নফিউল ইসলামকে।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে নতুন এই অঙ্গসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও কেন্দ্রীয় কমিটির আংশিক তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাই হাট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে জাতীয় কৃষক শক্তির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবনিযুক্ত সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
এ সময় কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ রাজীবের মা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং জুলাই যোদ্ধা আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কৃষক শক্তির পক্ষ থেকে ১৪ দফা কৃষক অধিকার সনদ উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। ঘোষিত সনদে কৃষকদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি বীমা চালু, কৃষি অঞ্চলের পুনর্বিন্যাস, খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা, সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, কৃষিশ্রমিকের মর্যাদা, কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ, নারী কৃষকের অধিকার, কৃষকের সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কৃষক নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দেশের কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় কৃষক শক্তি ভবিষ্যতে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।