![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি রোগ ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি চিঠিতে লেখেন, শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করেন। পরে আদালতের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
বর্তমানে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল সংসদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসেবে স্বীকৃত।