![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকেল ৫টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন বলে জানা গেছে। সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করার উদ্দেশ্যেই এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাঁর অপসারণের দাবি তোলে এবং বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি সাংবিধানিক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়ে একমত হয়নি। ফলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
এদিকে বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছেছে এবং বিষয়টি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত করেছে।
চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ কী হবে, সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।