![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনই কোনো সমাধান আসেনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুবনেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শুক্রবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং সিজেপির দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় নিয়েছে।
সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বৈঠকে তারা সরকারের কাছে আন্দোলনের সব দাবি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন।
আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি হলো— শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না করার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন দ্রুত সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু শাস্তি কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের জন্য এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংসদের চলমান অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে নয়াদিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানী দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা এবং কিছু এলাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ শুক্রবারও ১৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন জাতীয় মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনার পর দ্রুত দেশব্যাপী ছাত্র-যুব আন্দোলনে রূপ নেয়।