• হোম > বিদেশ > মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি

মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি

  • শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩২
  • ৩৫

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে তেহরান সফর করেন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে বৈঠকের পর ওই প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির চূড়ান্ত অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধান ছাড়া কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তারা আগ্রহী নন। তাদের মতে, এই ইস্যুই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়।

অন্যদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আলি আল-জাইদির তেহরান সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরাকের ভূখণ্ড কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ, কার্গো বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হামলার ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ থেকেই আদায় করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে জাহাজ বা পণ্যবাহী কার্গোর ওপর যেকোনো হামলার আর্থিক দায় ইরানকে বহন করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ জব্দকৃত অর্থ থেকেই দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্ষতির অজুহাতে অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নীতি আন্তর্জাতিক আইনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।

আরাগচির ভাষায়, কোনো রাষ্ট্র যদি অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করে, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বের কোনো দেশের সম্পদই নিরাপদ থাকবে না। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক ও সামরিক হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিরোধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14328 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 11:41:13 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh