ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর সদর দপ্তরে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বাহিনীর এক সদস্যের এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জওয়ানকে আটক করেছে পুলিশ ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যে বিভাগীয় ও পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত ১৭ মাইল এলাকায় অবস্থিত বিএসএফের ৭১ ও ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, অভিযুক্ত জওয়ান শিবম কুমার মিশ্র প্রথমে সদর দপ্তরের প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা এক সেন্ট্রিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি ব্যারাকের দিকে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। সে সময় অনেক জওয়ান দায়িত্ব শেষ করে ব্যারাকে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
গুলিতে তিনজন জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরেক জওয়ান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের একজন অজয় কুমার সিং (৫১)। তার বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যের সারান জেলায়। অন্যজন সুরেশ দুর্গু আম্বেদকর (৩৬), যিনি মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলার বাসিন্দা।
আহত জওয়ান বিকাশ ব্রহ্মা (৪৪) বিএসএফের একজন হেড কনস্টেবল। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাসিন্দা। তার পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিকাশ ব্রহ্মা জানান, তিনি ডিউটি শেষে ব্যারাকে ফেরার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ টানা গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রাণ বাঁচাতে তিনি খাটের নিচে আশ্রয় নেন। পরে জানতে পারেন, তার দুই সহকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, গুলি চালানো জওয়ান শিবম কুমার মিশ্র ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিবম কুমারের বাড়ি ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি এর আগে কোর্ট-মার্শালের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কিছুদিন বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, কোর্ট-মার্শালের মাধ্যমে নেওয়া শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার প্রতিশোধ নিতেই তিনি সহকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখনই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএসএফের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহত জওয়ানদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে বিএসএফ সদর দপ্তর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।