![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে টানা দুই দিনে মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ সম্ভব হয়নি। পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিজিবি সূত্র জানায়, সর্বশেষ শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় পুশ ইনের চেষ্টা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথে সাঁতরে দুই পুরুষ, চার নারী ও দুই ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন।
টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি শনাক্ত করে দ্রুত সীমান্তে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা নদীপথেই ভারতের দিকে ফিরে যান বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের ৭৬/৪-এস পিলার এলাকায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনার অভিযোগ ওঠে। ৬ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফ এক শিশু, তিন নারী ও এক পুরুষসহ মোট পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দল তাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দিলে তারা কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। পরে বিএসএফ তাদেরও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ ইনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে আইন লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুশ ইনের অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।