![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগের সামরিক অভিযানের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একটি বড় সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তার ভাষায়, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তবে এমন পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় রেখে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেননি।
ইরানে সম্ভাব্য হামলায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযানে যুক্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে একাই অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েল সরাসরি অভিযানে অংশ নিলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে সফরে আসতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরান এখনো এমন অবস্থানে পৌঁছায়নি, যেখানে একটি সমঝোতা সম্ভব। তার দাবি, ইরান এখনো আলোচনায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখায়নি। মধ্যস্থতাকারী সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোও ইরান গ্রহণ করেনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েকদিন ধরে ইরানে সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার ঘটনাও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুথিদের ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলার দায় ইরানের ওপরই বর্তাবে। তিনি হুথিদের ইরানের ছায়াশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।