![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিরপেক্ষ একটি স্থানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংগঠনটির এক মুখপাত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মধ্যে এই আলোচনাকে সংকট নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা একই সঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছেন।
এর আগে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলোচনার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। ফলে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটি তার সরকারের সামনে অন্যতম বড় জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকারপক্ষের মন্ত্রীদের সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের বৈঠক একটি নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সরকার খোলা মনে আমাদের বক্তব্য শুনবে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় থাকা দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
এদিকে, সরকার ও আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য এই বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক মহল, শিক্ষার্থী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের। আলোচনার মাধ্যমে সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।