ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে দেশে হামে এবং হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৭১০ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৮৪৮ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনে।
এদিকে একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ১৬৬ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজার ৭ জনে পৌঁছেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৮৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা এবং জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। একই সঙ্গে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।