• হোম > বিদেশ > জেনেরিক ওষুধে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা ট্রাম্পের, চাপে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত

জেনেরিক ওষুধে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা ট্রাম্পের, চাপে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত

  • বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৯
  • ৬৫

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারতের জেনেরিক ওষুধে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের, রপ্তানিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের আমদানি নিরুৎসাহিত করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন নীতির আওতায় বিদেশ থেকে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, যেসব ওষুধ কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে না, তাদের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। তার ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।

নতুন এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ ভারতের ওষুধশিল্পে। বিশ্ববাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের কারণে ভারতকে দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশটির মোট ওষুধ রপ্তানির প্রায় ৩৮ শতাংশ।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন শুল্কনীতি মূলত জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে পেটেন্ট, ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিই বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও কম দামের জেনেরিক ওষুধের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ওষুধের বাজারমূল্যের ওপর।

এর আগে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য আলোচনায় জেনেরিক ওষুধ ও কাঁচামাল সরবরাহে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছিল। ফলে নতুন শুল্কনীতি সেই সমঝোতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, বিষণ্নতা, সংক্রামক রোগ এবং বিভিন্ন মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রেসক্রিপশনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির প্রায় ৬৫ শতাংশ উৎপাদন করেছে ভারতের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস ও লুপিন। ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর কৌশলের অংশ হলেও এর প্রভাব বৈশ্বিক ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল বাণিজ্যেও পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14268 ,   Print Date & Time: Monday, 7 September 2026, 01:30:06 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh