• হোম > বাংলাদেশ > ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা

  • বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৭
  • ৫১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজধানীর যানজট কমানো এবং ঢাকা-সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী, প্রথম সংশোধনে অনুমোদিত ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা ব্যয় থেকে প্রকল্পে নতুন করে ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। শুরুতে ২০১৭ সালে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

সংশোধিত পরিকল্পনায় সরকারি অর্থায়নের অংশ ৫ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা বেড়েছে, যা প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের অংশও ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকশায় পরিবর্তন, অতিরিক্ত অবকাঠামো সংযোজন, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন প্রকল্প ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ।

মূল প্রকল্পে ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮০ দশমিক ৫৭ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে তা ৮৬ টাকা এবং সর্বশেষ সংশোধনীতে ১২১ দশমিক ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিময় হার বৃদ্ধির ফলে ঠিকাদারদের বকেয়া ও অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে, যা মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় ৩৯ শতাংশ।

এছাড়া অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের কারণে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ আরও ১ হাজার কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ছে। আমদানিকৃত নির্মাণসামগ্রীর ওপর উচ্চ কাস্টমস শুল্ক পরিশোধে অতিরিক্ত ৩৯০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের নকশায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ৭.৬২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১২.২ মিটার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেতুর স্প্যানের দৈর্ঘ্য বাড়ানো, ঢাকা-টঙ্গী রেল করিডোরের সম্প্রসারণ, বাইপাইল এলাকায় নতুন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগকারী র‍্যাম্প এবং আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নকশাগত পরিবর্তনের কারণে ভূমি অধিগ্রহণের পরিধিও ১০.৮৯ হেক্টর থেকে ১৪.৫ হেক্টরে উন্নীত করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ৭৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন স্থানান্তর এবং জমি ভাড়ার জন্য নতুন করে ৫১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আশুলিয়া হয়ে সাভারের শ্রীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সরকারের আশা, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকা, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারি, অর্থায়ন প্রক্রিয়ার বিলম্ব, বৈদেশিক ঋণের শর্ত পরিবর্তন এবং প্রকৌশলগত প্রয়োজনীয়তার কারণে দ্বিতীয় সংশোধনী অনিবার্য হয়ে ওঠে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছরের **ডিফেক্টস লাইয়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি)**সহ প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14246 ,   Print Date & Time: Sunday, 6 September 2026, 11:16:39 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh