• হোম > বিদেশ > দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা: মোদির জবাব চাইলেন আখিলেশ যাদব

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা: মোদির জবাব চাইলেন আখিলেশ যাদব

  • বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২১
  • ৬৪

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় ভারতের পার্লামেন্টে তীব্র সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান আখিলেশ যাদব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশি নির্যাতনের দায় সরকার কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না।

বুধবার (২২ জুলাই) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আখিলেশ যাদব বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করলে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে।

আখিলেশের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় অনেক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু ছাত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া বহু শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে এবং অনেকের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে আখিলেশ প্রশ্ন করেন, দেশের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী সংসদের বাইরে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন, তাহলে সংসদের ভেতরে এসে কেন এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন না।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলো বহুবার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা চাইলেও প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন। এই কারণেই বিরোধী নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে।

আখিলেশ যাদব স্মরণ করিয়ে দেন, মঙ্গলবার লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ আটক করে। তিনি নিজেও ওই অভিযানে আটক হন।

তার ভাষায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। যদি সরকার সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বক্তব্য শুনত, তাহলে সংসদের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ জানানোর প্রয়োজন হতো না।

এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এনইইটি (NEET) ইস্যু নিয়ে সংসদে আলোচনায় তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সরকার অভিযোগ করেছে, বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সামনে এনে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণেই সংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে বুধবার কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হন। তাদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জবাব সরকারকে সংসদেই দিতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বর্তমানে শিক্ষার্থী আন্দোলন, পুলিশি অভিযানের অভিযোগ এবং বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14232 ,   Print Date & Time: Sunday, 6 September 2026, 03:30:14 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh