ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইরানের সামুদ্রিক হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং শত শত নাবিকের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তবে বর্তমানেও হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের বুশেহর শহরেও অন্তত দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে দেশের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের যৌথ সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের এক শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ব্যয়ের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার খরচ এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানান।
তবে যুদ্ধের ব্যয় কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। এ নিয়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ইরানে টানা মার্কিন হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার লেনদেন শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলার প্রতি ব্যারেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।