• হোম > বিদেশ > এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

  • বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮
  • ৫৮

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তকে এলডিসি-উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রপ্তানি সুবিধা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন বাস্তবতায় সফলভাবে অভিযোজনের জন্য অতিরিক্ত সময় অত্যন্ত প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, অর্থনৈতিক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয় যে, দুই দেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা যুক্তিযুক্ত হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক এবার সাধারণ পরিষদকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তবে সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে, তাহলে দুই দেশ প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে।

সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এলডিসি-উত্তর যুগে সফল ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে শুল্ক সুবিধা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতি, শিল্প, রপ্তানি এবং বিনিয়োগ খাতকে আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14206 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 11:15:39 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh