• হোম > বাংলাদেশ > এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, আগস্টেই হতে পারে বড় চুক্তি

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, আগস্টেই হতে পারে বড় চুক্তি

  • বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮
  • ৫২

------

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর সম্প্রসারণে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।

তবে নতুন উড়োজাহাজগুলো দ্রুত হাতে পাওয়া যাবে না। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারবাসের উড়োজাহাজের ডেলিভারি শুরু হতে পারে ২০৩১ সাল থেকে। ফলে নতুন বিমান হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে লিজের মাধ্যমে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, চুক্তির আর্থিক মূল্য ও অন্যান্য শর্তাবলি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল্যসহ বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাজ্যের ফার্নবোরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশো-২০২৬-এ বিমান বাংলাদেশ ও এয়ারবাসের কর্মকর্তাদের বৈঠকে চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এয়ারবাসের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে ৩১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এটি এয়ারবাসের প্রতি বিমানের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের তৈরি। বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় প্রতিষ্ঠানের নতুন ক্রয়াদেশ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহর বেড়ে দাঁড়াবে ৪৩টি উড়োজাহাজে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বহর বাড়িয়ে ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ আসতে সময় লাগবে বিবেচনায় আগামী বছরের মধ্যে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের চাহিদা বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে বহর সম্প্রসারণ এখন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

এয়ারবাস সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি কার্যকর করতে এখনো বিমানের পরিচালনা পর্ষদ এবং সরকারের কয়েকটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। বিশেষ করে ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম অর্থ প্রদানের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত মোট চুক্তি মূল্যের একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়।

বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটিতে জমা দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, এয়ারবাস চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৪টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির পর সেই সংখ্যা কমিয়ে ১০টিতে আনা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৭৭-৯ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই এয়ারবাসের সঙ্গে দ্বিতীয় বৃহৎ ক্রয়চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজ নিয়ে গঠিত ‘মিশ্র বহর’ দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্পষ্ট বাণিজ্যিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এই বিনিয়োগ থেকে দেশের বিমান খাত উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14202 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 07:49:16 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh