![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি)-এর সাবেক মহাপরিচালক ও চাকরিচ্যুত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী ও নথিপত্রের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাড়িতে পাওয়া বিভিন্ন সম্পদ ও সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ এবং তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর আগে দুদকের আবেদনের পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিয়াউল আহসান জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার সংরক্ষণ এবং আটটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের দাবি, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিষয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সম্পদের প্রকৃত উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি সর্বশেষ এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরবর্তীতে একই বছরের ১৬ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিউ মার্কেট থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।