• হোম > বিদেশ > বাংলাদেশে আবারও গুমের অভিযোগ, সরকারের প্রতি এইচআরডব্লিউর জরুরি আহ্বান

বাংলাদেশে আবারও গুমের অভিযোগ, সরকারের প্রতি এইচআরডব্লিউর জরুরি আহ্বান

  • সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৩
  • ৫৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ সামনে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, গুম প্রতিরোধে পূর্বে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপ পুনর্বহাল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, ৩০ বছর বয়সী মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সংস্থাটি গত ১২ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সর্বশেষ মিরাজকে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে দেখা গিয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই অধ্যাদেশ নবায়ন না হওয়ায় এটি কার্যকারিতা হারায়। বর্তমানে সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, অতীতে বাংলাদেশে হাজারো মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক অভিযোগটি প্রমাণ করে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার ঝুঁকি থেকেই যায়। তার মতে, মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার জয়মণির ঘোল এলাকায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড সদস্যদের একটি স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরদিন পরিবারের সদস্যরা কোস্ট গার্ড কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে প্রথমে জানানো হয় তিনি একটি অভিযানে রয়েছেন। পরে আবার দাবি করা হয়, তাকে কখনও আটক করা হয়নি।

মিরাজের পরিবারের আইনজীবী জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই নিয়ে যান। তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে।

পরিবারটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পর হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১৫ দিনের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা তাদের নির্দেশে কাউকে আটক করার পর সেই আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা কিংবা তার অবস্থান গোপন রাখাকে জোরপূর্বক গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দেওয়ায় গুমের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এইচআরডব্লিউ আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮২ জন পরে ফিরে এলেও ২৫১ জন এখনও নিখোঁজ বা মৃত বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কমিশনের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সংস্থাটি মনে করে, মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করা হলে ভবিষ্যতে গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কার্যকর তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রস্তাবিত আইন পুনর্বিবেচনা করে কমিশনের স্বাধীনতা এবং জোরপূর্বক গুম তদন্তের ক্ষমতা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14156 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 03:22:12 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh