• হোম > বাংলাদেশ > সুরমার পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

সুরমার পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

  • সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৪
  • ৫৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

উজানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ৩৫ মিটার, যা এখনও বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

এ ছাড়া লাউয়ারগড় পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে এবং দিরাই পয়েন্টে ৬ দশমিক ০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই পানির উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়ারগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীগুলোর পানির চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নদীর পানির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।

এদিকে রোববার গভীর রাতে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি আবারও লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। রাতভর পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারকে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু দাস জানান, রাতের মধ্যে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির আঙিনা ও ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14145 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 08:05:12 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh