ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে স্পেনের তারকা উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতলেও শেষ পর্যন্ত সেই গোল বাতিল করে দেন ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। আরও বিস্ময়ের বিষয়, সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত মনে হলেও ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) থেকে রেফারিকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি।
ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে দানি ওলমো ও মিকেল মেরিনোর দারুণ সমন্বিত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে গোল করেন নিকো উইলিয়ামস। গোলের পর স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হওয়ার আগেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দেন এবং স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর বিরুদ্ধে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। রেফারির মতে, বল উইলিয়ামসের কাছে পৌঁছানোর আগে মেরিনোর চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি মাটিতে পড়ে যান। সেই ঘটনাকেই ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে স্পেনের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তীব্র আপত্তি জানালেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকের কাছেও ঘটনাটি বিতর্কিত মনে হয়েছে। কারণ রিপ্লেতে দেখা যায়, ফাউলের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত থাকার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।
ভিএআর কেন হস্তক্ষেপ করেনি—এ প্রশ্নও উঠেছে ম্যাচ শেষে। এ বিষয়ে সিবিএস স্পোর্টসের বিশ্লেষক নিকো কান্তর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, রেফারি যদি গোল হওয়ার পর বাঁশি বাজাতেন, তাহলে ভিএআরের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করা যেত। কিন্তু তিনি গোল হওয়ার আগেই খেলা থামিয়ে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ভিএআরের মাধ্যমে সেই গোল পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ থাকে না।
এই বিতর্ক সত্ত্বেও ম্যাচের ফল বদলায়নি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোল করেন। সেই একমাত্র গোলেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিএআর ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বে। যদিও বিতর্কিত মুহূর্তটি স্পেনের শিরোপা জয়ের আনন্দকে থামাতে পারেনি, তবুও ম্যাচটির অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে থাকবে নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া সেই গোল।