• হোম > খেলা > স্পেনের বিশ্বজয়, অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

স্পেনের বিশ্বজয়, অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

  • সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৩
  • ৫৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে স্পেনের মাথায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ‘লা রোহা’।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় স্পেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একের পর এক চাপে ফেললেও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির দল পুরো ম্যাচজুড়েই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের সামনে। খুব কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত গোল এবং নিশ্চিত করেন বিশ্বকাপ শিরোপা।

এর আগে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ৯০তম মিনিটে স্পেনের কুবার্সির ওপর কঠিন ট্যাকলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেস। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

ফাইনালে স্পেনের আক্রমণের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি মোট ১১টি গোলরক্ষার কৃতিত্ব গড়েন, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

অন্যদিকে লিওনেল মেসির জন্য দিনটি ছিল হতাশার। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলার বিরল ইতিহাস গড়লেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। পুরো ম্যাচে ১১৬ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মেসির নেওয়া প্রথম শটও স্পেনের রক্ষণভাগ আটকে দেয়।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে যায়। অন্যদিকে স্পেন দুর্দান্ত রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং কার্যকর আক্রমণের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।

বিশ্বকাপজয়ী স্পেন পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন নজির। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলেও এত কম গোল হজম করে কোনো দল এর আগে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও ইতিহাসে নাম লেখান। ৬৫ বছর বয়সে তিনি বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে প্রবীণ কোচের রেকর্ড গড়েন। পাশাপাশি তার অধীনে স্পেন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।

২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জিতে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন অবস্থায় বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় দল হিসেবে নিজেদের নাম লেখাল স্পেন। আক্রমণভাগ, রক্ষণ এবং দলীয় সমন্বয়ের অসাধারণ প্রদর্শনীতে ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিল লা রোহা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14125 ,   Print Date & Time: Saturday, 5 September 2026, 11:39:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh