• হোম > বিদেশ > সৌদিতে হামলা পাকিস্তানে হামলার সমান, তেহরানকে সতর্ক করল ইসলামাবাদ

সৌদিতে হামলা পাকিস্তানে হামলার সমান, তেহরানকে সতর্ক করল ইসলামাবাদ

  • শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৪
  • ৫০

সৌদিতে হামলা পাকিস্তানে হামলার সমান, তেহরানকে সতর্ক করল ইসলামাবাদ

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে নিজেদের ওপর হামলার সমতুল্য বলে ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

রয়টার্সের বরাত অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে।

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর বহিরাগত হামলাকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এরই অংশ হিসেবে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা দেশটির বাহিনীকে সম্ভাব্য সংঘাতের সরাসরি ঝুঁকির মুখে রেখেছে।

গত সোমবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ তুলে হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে চার বছরের যুদ্ধবিরতির কার্যত অবসান ঘটে। যদিও সংঘাত এখনো সীমিত পরিসরে রয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এত দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে ইসলামাবাদ ধারণা করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট পাকিস্তানের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা পাকিস্তানের বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা এই মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী, কারণ এর সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্বার্থ জড়িত।

বিশ্লেষকদের মতে, গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে না; বরং পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করছে।

বর্তমানে পাকিস্তান সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে হুতিরা যদি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলার মাত্রা আরও বাড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে।

পাকিস্তানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়াই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে সৌদি আরব যদি সামরিক সহায়তা চায়, তাহলে পাকিস্তান নিঃসন্দেহে তাদের পাশে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের দ্বিধা বা অনিশ্চয়তার সুযোগ নেই।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14105 ,   Print Date & Time: Friday, 4 September 2026, 10:17:30 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh