![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে এই মহারণ শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, এটি এক অর্থে গুরু ও শিষ্যের আবেগঘন দ্বৈরথও। কারণ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি একসময় স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তের কাছেই কোচিংয়ের পাঠ নিয়েছিলেন।
২০১৭ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের উপকণ্ঠে অবস্থিত লাস রোসাসে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রো কোচিং লাইসেন্স কোর্সে অংশ নেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার স্কালোনি। সেই কোর্সের অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলেন লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি, কয়েক বছরের ব্যবধানে শিক্ষক ও ছাত্র বিশ্বকাপের ফাইনালে দুই ভিন্ন দেশের প্রধান কোচ হিসেবে একে অপরের প্রতিপক্ষ হবেন।
কোচিং ক্যারিয়ারে স্কালোনির উত্থান ছিল অবিশ্বাস্য। ২০১৮ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলকে সাফল্যের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তার নেতৃত্বে ২০২১ সালে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর আসে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৪ সালে আরেকটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
অন্যদিকে লুইস ডি লা ফুয়েন্তেও স্প্যানিশ ফুটবলের পুনর্জাগরণের অন্যতম স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর স্পেনের দায়িত্ব নিয়ে তিনি দলকে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনেন। তার অধীনে স্পেন ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে এবং পরবর্তীতে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও জায়গা করে নেয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দুজন কোচই একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর স্কালোনি বলেন, “তিনি ছিলেন আমার পরামর্শদাতা। আমি যা জানি, তার অনেক কিছুই তার কাছ থেকে শিখেছি। আর এখন আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছি। তিনি তার দল নিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তার জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত।”
খেলোয়াড়ি জীবনের দীর্ঘ সময় স্পেনে কাটানো স্কালোনির সঙ্গে দেশটির সম্পর্কও গভীর। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ এবং পরিবারসহ তারা মায়োর্কায় বসবাস করেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক মাঠের লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
স্কালোনির ভাষায়, “সবাই জানে আমি স্পেনে থাকি এবং আমার পরিবার স্প্যানিশ। তারপরও আমি ডি লা ফুয়েন্তেকে হারানোরই চেষ্টা করব। একজন কোচ এবং মানুষ হিসেবে তিনি আমার সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছেন।”
অন্যদিকে ডি লা ফুয়েন্তেও তার সাবেক ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে সে সবকিছু জিতেছে। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী ছাত্র ছিল এবং সবসময় শেখার প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। তার শিক্ষক হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের, তবে সবকিছুর আগে সে আমার বন্ধু।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের এই লড়াই তাই শুধু ট্রফির জন্য নয়; এটি দুই প্রজন্মের কোচিং দর্শন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণারও এক অনন্য গল্প। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে—যেখানে একসময়কার গুরু ও শিষ্য নিজেদের কৌশল ও মেধার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় নামবেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।