![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই, তবে তাদের অনেকেই অল্প বয়সেই আর্থিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা বাধার মুখোমুখি হন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কেবল অনুপ্রেরণা নয়, প্রতিটি শিশুর মেধা ও দক্ষতা বিকাশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে জাইমা রহমান জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক, খেলাধুলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কোডিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ সাফল্য তাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি লেখেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এসব শিক্ষার্থী নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করছে। তাদের জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাইমা রহমান বলেন, দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে অল্প বয়সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। কারও রয়েছে আর্থিক সংকট, কারও ওপর পরিবারের দায়িত্ব, আবার ভিন্নভাবে সক্ষম অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবও তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং কঠিন সময়ে কারা তাদের সাহস জোগায়। তার মতে, একজন রোল মডেল হতে বিখ্যাত বা নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়। একজন সংগ্রামী বাবা-মা, অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক, নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষক কিংবা সমাজের কোনো ইতিবাচক মানুষও একজন তরুণের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।
জাইমা রহমান আরও বলেন, অনুপ্রেরণার জন্য বাংলাদেশের তরুণদের সব সময় বিদেশের দিকে তাকাতে হবে না। দেশের মধ্যেই এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের সাহস, মেধা ও সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু অনুপ্রেরণা দিলেই হবে না; এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু শিক্ষা, খেলাধুলা বা নতুন দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবে। কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন ভাগ্য, পরিচিতি বা পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল না হয়।
পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমান সমাজের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মানুষদের তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ মানুষের সামান্য উৎসাহ, বিশ্বাস কিংবা সহানুভূতিও একজন তরুণের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তার ভাষায়, বাংলাদেশের যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বরং প্রশ্ন হলো—যখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের পাশে যথেষ্টভাবে দাঁড়াতে পারছে কি না।