ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের সামরিক স্থাপনায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং আশপাশের কৌশলগত এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব এলাকায় ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামরিক লজিস্টিক কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কাতারের রাজধানী দোহায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি শিশু আহত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামির এলাকায় পাঁচটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং ইরানশহর বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে। নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে প্রণালিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনও ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে চলমান হামলার ঘটনায় কোনোভাবেই নীরব থাকবেন না এবং প্রয়োজনীয় জবাব নিশ্চিত করবেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দাবি করেন, ইরান তার ভূখণ্ডের যেকোনো স্থান থেকে হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। ফলে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের মার্কিন পরিকল্পনা কার্যকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।