• হোম > বাংলাদেশ > সস্তায় এলপিজি দেবে সরকার, প্রান্তিক মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

সস্তায় এলপিজি দেবে সরকার, প্রান্তিক মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

  • শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪০
  • ৪২

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারের জন্য সুলভ মূল্যে এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে শিগগিরই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ জীবনে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে রান্নার কাজে কাঠ, খড়কুটো ও ঘুঁটের ব্যবহার কমে যাবে, ফলে বন উজাড় হ্রাস পাবে এবং চুলার ধোঁয়াজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বর্তমানে দেশের বহু গ্রামীণ পরিবার এখনো রান্নার জন্য ঐতিহ্যগত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এতে নারী ও শিশুদের দীর্ঘসময় ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিল রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর বাংলাদেশবিষয়ক জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকিতে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সেটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু গ্রামের দরিদ্র পরিবার নয়, ঢাকা ও অন্যান্য শহরের বস্তিবাসীদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি সফল করতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ভর্তুকিপ্রাপ্ত এলপিজি যাতে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বা অপব্যবহার না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে

বাংলাদেশে গত সাত বছরে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৫ লাখ টনের বেশি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজির বাজার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে।

দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশ সরবরাহ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং মাত্র ২ শতাংশ আসে সরকারি খাত থেকে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৮২৫ টাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি কোম্পানির এলপিজি অনেক ক্ষেত্রে সরকারি দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে মূল্য নির্ধারণ করে, বাস্তবে অধিকাংশ খুচরা বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের সফল মডেল অনুসরণের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভারতের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। ভারতে দরিদ্র পরিবারগুলো বাজারমূল্যে এলপিজি কিনলেও সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকির অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। এতে দুর্নীতি, মধ্যস্বত্বভোগী এবং কালোবাজারির সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।

এদিকে পাকিস্তানেও শীত মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত আকারে কম মূল্যে এলপিজি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বাংলাদেশে সঠিক পরিকল্পনা, ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14052 ,   Print Date & Time: Saturday, 5 September 2026, 05:03:10 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh