![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত একটি বিশাল বিলবোর্ড। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে সরাসরি প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ডটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ারে স্থাপিত বিলবোর্ডে হোয়াইট হাউসের আদলে একটি পটভূমির সামনে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো কয়েকটি কফিন দেখানো হয়েছে। কফিনগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের প্রতিকৃতি যুক্ত করে ফারসি ভাষায় “রক্তের বদলে রক্ত” বার্তা লেখা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে প্রতিশোধমূলক প্রতীকী প্রচারণার অংশ।
এর আগে তেহরানের এঙ্গেল্যাব স্কয়ারেও আরেকটি বিতর্কিত বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি কালো কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। সেখানে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় “আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব”—এমন বার্তা প্রদর্শন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সর্বশেষ বিলবোর্ডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং সন্তান ইভানকা ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্পের ছবিও স্থান পেয়েছে।
ইরানের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও এক বার্তায় বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা “নিজেদের বিছানায় শান্তিতে মরতে পারবে না”। তার এই বক্তব্য ইরানের প্রতিশোধমূলক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
প্যালেস্টাইন স্কয়ারের দেয়ালচিত্র দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে ইসলামি বিপ্লবপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সেখানে নিয়মিত সমাবেশ ও প্রচারণা চালিয়ে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিলবোর্ডগুলো শুধু প্রতীকী বার্তা নয়; বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারও প্রতিফলন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, তার বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।