• হোম > বিদেশ > ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মার্কিন হামলা, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মার্কিন হামলা, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে বিস্ফোরণ

  • শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৯
  • ৫৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকির জবাব দিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আশপাশ, বন্দর আব্বাস, বুশেহর এবং কৌশলগত শহর সিরিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আওতায় এসেছে বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকাও।

এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের খামির বন্দরের কাছে দুটি সেতুতে হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনার সময় কেবল ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেন্টকমের প্রকাশিত লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় কোনো বেসামরিক স্থাপনার উল্লেখ ছিল না।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং হরমুজ প্রণালির একটি সামুদ্রিক নজরদারি রাডার ধ্বংস করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি চলমান অভিযানের ১৩তম ধাপ এবং প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার আল-তানফে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। ইরানশাহরে ইরানি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ড্রোন হামলার মাধ্যমে কুয়েতে মার্কিন সেনাদের রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, কাতারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটির আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার পর কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতা জারি করা হয়।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংস হওয়া ড্রোনের অংশ আবাসিক এলাকায় পড়ে কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশন এবং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। পাশাপাশি হরমুজগান প্রদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে নির্ভুল অস্ত্রের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় ফিরে না এলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। সর্বশেষ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14030 ,   Print Date & Time: Saturday, 5 September 2026, 12:14:31 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh