• হোম > বাংলাদেশ > নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ২২:০১
  • ৪৩

নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার ও দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মসূচির ভিত্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং পূর্বে উত্থাপিত নীতিগত বিষয়গুলোর ওপরই ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গড়ে উঠবে। তার ভাষায়, ইতোমধ্যে অনেক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়েছে, আর বাকি সংস্কারগুলো সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

গত ১২ জুলাই আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় আসে। সংস্থাটি জানায়, এটি একটি “ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং স্টাফ ভিজিট”, যার উদ্দেশ্য সরকারের নীতিগত লক্ষ্য, সংস্কার কর্মসূচি ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রস্তুত করা।

সফরকালে প্রতিনিধি দল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব আহরণ, করনীতি, সরকারি ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, সার ও খাদ্য ভর্তুকি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে। এছাড়া ব্যাংকিং খাত নিয়ে একটি পৃথক গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেয় প্রতিনিধি দল।

সফর শেষে আইএমএফ জানায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশ হতে পারে। তবে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতার মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে আইএমএফ মনে করে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য কাঠামো, ঋণের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার শর্ত নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে অতিরিক্ত রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) যোগ হওয়ায় কর্মসূচির আকার বেড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে বর্তমান সরকার আগের কর্মসূচি স্থগিত করে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশা, চলমান মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14015 ,   Print Date & Time: Saturday, 5 September 2026, 04:54:27 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh