![]()
টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর তিনি বলেন, মাঠের পারফরম্যান্সই প্রমাণ করেছে আর্জেন্টিনা কোনো বিশেষ সুবিধা নিয়ে জেতে না। বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তার অসাধারণ নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিং হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে চলা বিতর্কেরও জবাব দেন মেসি। তিনি বলেন, “এতে যার যত কষ্টই হোক, তারা যা খুশি বলুক—আমরা আবারও মাঠে প্রমাণ করেছি যে কেউ আমাদের কিছু ফ্রি-তে দেয় না।” তিনি আরও বলেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে দলকে নিয়ে অনেক সমালোচনা ও সন্দেহ ছিল, কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল এই দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেই সাফল্য অর্জন করবে। “ঈশ্বরের কৃপায় আমরা এখন ফাইনালে,” যোগ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ক্যারিয়ারের ২০৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া মেসি বলেন, “আমরা যদি হেরে যেতাম, তাহলে অনেকেই আমাদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলত। কিন্তু আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল, তাই জিততে পেরে আমরা সৌভাগ্যবান।” তিনি আরও বলেন, ফুটবলীয় দিক থেকে আর্জেন্টিনা ভালো খেলেছে, তবে এমন ঐতিহাসিক ম্যাচে আবেগ ও ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেছেন মেসি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ করে ইতিহাস গড়েছিলেন ম্যারাডোনা। তাকে স্মরণ করে মেসি বলেন, “নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজ ভীষণ আনন্দ পাচ্ছেন। আজকের দিনটি তার জন্য খুবই বিশেষ। তাকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। ওপর থেকে তিনি যেভাবেই দেখুন না কেন, উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।”
ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে লিওনেল মেসি এখন গোল্ডেন বলের দৌড়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন। আগামী রোববার ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা, যেখানে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থাকবে মেসি ও তার সতীর্থদের সামনে।