![]()
বিশ্বকাপ মানেই গোলের লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হলো গোল্ডেন বুট। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্ট এবং মাঠে খেলা সময় বিবেচনায় বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। ফলে প্রতিটি আসরেই নতুন একজন তারকা এই সম্মান অর্জন করেছেন। এবার সেই ট্রফি জয়ের খুব কাছাকাছি আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
অনেকের ধারণা, গোল্ডেন বুট পুরোপুরি সোনার তৈরি। বাস্তবে এটি বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি হয় এবং বাইরে সোনালি প্রলেপ দেওয়া থাকে। এর ওজন প্রায় ১ কেজি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এর আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে উল্লেখ করা হলেও ফিফা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এর মূল্য প্রকাশ করেনি। এই পুরস্কারের সঙ্গে কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হয় না; বিজয়ী পান শুধুমাত্র ট্রফি ও সম্মান। তবে গোল্ডেন বুট জয়ের পর খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য, স্পনসরশিপ, ক্লাব চুক্তি ও বাণিজ্যিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। যদিও ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি, ব্যক্তিগত এই সম্মানটি ঠিকই নিজের করে নেন।
এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের রেকর্ড এখনো ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেনের দখলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে তিনি অবিশ্বাস্য ১৩ গোল করেছিলেন, যা আজও বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্টাবিলে ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের প্রথম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান।
চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। এখন পর্যন্ত দুজনেরই গোল ৮টি। তবে ৭১২ মিনিট খেলে মেসির অ্যাসিস্ট ৪টি, আর ৬৬৬ মিনিট মাঠে থাকা এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ৩টি। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় এই মুহূর্তে মেসিই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
১৯ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ২০ জুলাই ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এমবাপ্পে যদি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলসংখ্যা বাড়াতে না পারেন, তাহলে ফাইনালে মেসির সামনে থাকবে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করার বড় সুযোগ।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, গোল্ডেন বুট প্রায়ই সেই ফুটবলারের হাতে ওঠে, যিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত নিজের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন।