![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিক, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাই শিশুদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মানুষ, প্রাণী কিংবা প্রকৃতির প্রতি কখনো নির্দয় না হয়। তিনি বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে মানবিক মানুষ প্রয়োজন, আর সেই দায়িত্ব শিক্ষকদেরই পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের শক্ত ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারেন। তিনি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়েই শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব।
শিশুদের প্রতি প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি শিশুরাও বড় হবে। গাছই হবে তাদের বন্ধু এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তাবাহক। তিনি বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেটিকে আরও সম্প্রসারণ করছে। তিনি জানান, অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফল করা ছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া পর্যায়ক্রমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিডডে মিল কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পদক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিতর্ক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।