![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের পোলট্রি শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হলেও বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে এখনো শীর্ষ ৫০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ব্রয়লার উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৫৩তম।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও উৎপাদন ব্যয়, আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চ মূল্য এবং খামারিদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এই শিল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস পোলট্রি শিল্প। এই খাতকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হলে উৎপাদন খরচ কমানো, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের মোট ব্যয়ের বড় অংশই পোলট্রি খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারি নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তির বিস্তার, গবেষণা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হতে পারে।
বিশ্বে ব্রয়লার উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলো
বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে প্রায় ২১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। বৈশ্বিক মোট উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার উৎপাদন করেছে। বিশাল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে দেশটির সরকার পোলট্রি শিল্পে ধারাবাহিকভাবে বড় বিনিয়োগ করে আসছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল, যেখানে ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মাংস উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুরগির মাংস রপ্তানিকারক দেশও ব্রাজিল। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির হিমায়িত মুরগির মাংস ব্যাপকভাবে রপ্তানি হয়।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালে রাশিয়ায় প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার উৎপাদিত হয়েছে।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভারত। USDA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৫ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ভারতের এই অগ্রগতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, খামারিদের প্রশিক্ষণ এবং খাদ্য উৎপাদনে ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ব্রয়লার উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।