• হোম > এক্সক্লুসিভ | কর্পোরেট > সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়ের স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে গ্রামীণফোন

সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়ের স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে গ্রামীণফোন

  • বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৭
  • ৬৫

সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়ের স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে গ্রামীণফোন

গুরুত্বপূর্ণ  পরিসংখ্যান (টাকা)

দ্বিতীয় প্রান্তিক ২০২৬

রাজস্ব (কোটি টাকা)

3,982

রাজস্ব প্রবৃদ্ধি (ইয়ার অন ইয়ার)

-3.0%

কর পরবর্তী মুনাফা (কোটি টাকা)

759

এনপিএটি মার্জিন

19.1%

ইবিআইটিডিএ মার্জিন

58.0%

শেয়ার প্রতি আয়

5.6

মূলধন ব্যয় (লাইসেন্স, ইজারা ও এআরও   ব্যতীত) (কোটি টাকা)

545

ঢাকা, জুলাই ১৫, ২০২৬: ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ৩,৯৮২ কোটি টাকার  রাজস্ব অর্জন করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড, যা মূলত চ্যালেঞ্জিং সামষ্টিক অর্থনীতির কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.০% কম। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৩ লাখে। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৬১.১% বা ৫ কোটি ২৭ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।

গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “প্রচুর বিনিয়োগ এবং একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশ সত্ত্বেও আমরা প্রায় ৫৮% এর একটি সন্তোষজনক ইবিআইটিডিএ মার্জিন বজায় রাখতে পেরেছি, যা আমাদের ধারাবাহিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন দক্ষতার প্রতিফলন। এই প্রান্তিকে আমরা দেশব্যাপী ১,০০০টিরও বেশি সাইটে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেছি এবং এর প্রাথমিক ইতিবাচক সুবিধা লক্ষ্য করছি। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ চলাকালীন আমাদের নেটওয়ার্কের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ চলাকালীন এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেটা ট্রাফিক পরিচালনা করেছে গ্রামীণফোন; এসময় গ্রাহকদের স্থিতিশীল অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ট্রাফিক সফলভাবে সামলেছি আমরা। এই প্রান্তিকে আমাদের গ্রাহক সংখ্যার উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি আমাদের এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে যে, আমাদের ব্যবসা সঠিক পথেই এগুচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা শুধু বাংলাদেশকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করছি না, বরং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সমাজ গঠনেও সহায়তা করছি। ইউনিসেফের সাথে আমাদের পার্টনারশিপের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অনলাইন নিরাপত্তা শিক্ষাকে যুক্ত করতে সহযোগিতা করেছি আমরা। পাশাপাশি গ্রাহক ও কর্পোরেট উভয় ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা ‘জিপি শিল্ড’-এর মতো সলিউশন চালু করেছি; যা আমাদের ডিজিটাল সিকিউরিটি পোর্টফোলিওকে আরো শক্তিশালী করার অব্যহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের অপারেশনাল এক্সিলেন্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখব; পাশাপাশি উৎপাদনশীলতার পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় সাশ্রয়ের পথ সুগম করতে এআই, অটোমেশন ও ডিজিটাল রূপান্তরকে কাজে লাগাব। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আমরা বিনিয়োগের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ। নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে নতুন প্রযুক্তি এবং ইকোসিস্টেম পার্টনারশিপ পর্যন্ত আমরা সুশৃঙ্খল বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব, যা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে জোরদার করবে। সরকারের সাথে এবং আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের ডিজিটাল লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখার পাশাপাশি আমাদের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য টেকসই ভ্যালু তৈরি করার প্রত্যাশী।”

গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক বলেন, “এই প্রান্তিকে আমাদের রাজস্ব সূচকগুলোর গতিপ্রকৃতি দেখে আমরা আশাবাদী। গ্রাহক সংখ্যার কথা ধরলে, এই প্রান্তিকে মোট গ্রাহক সংখ্যা আবারও বৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে এবং ৮ কোটি ৬৩ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে সক্রিয় ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ৫ কোটি ২৭ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের মোট গ্রাহক ভিত্তির ৬১%-এর বেশি। এই প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব ৬% বেড়েছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক; তবে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় তা ৩% কমেছে; কারণ গত বছরের ওই প্রান্তিকে একই সাথে দুটি ঈদ থাকার কারণে রাজস্বের ভিত্তি বেশি ছিল। মূল্যস্ফীতি এখনও প্রায় ৯.২% এর কাছাকাছি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তবে গত কয়েকটি প্রান্তিক ধরে আমাদের ব্যয় বৃদ্ধির হার ততটা নয়, যা পুরো প্রতিষ্ঠান জুড়ে আমাদের নেওয়া পরিচালন দক্ষতা ব্যবস্থার প্রতিফলন। আমাদের নেটওয়ার্ক এবং আইটি উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক বিনিয়োগ সত্ত্বেও মোট ব্যয় গত বছরের তুলনায় মাত্র ১.৮%-এর মতো সামান্য বেড়েছে। ইবিআইটিডিএ-এর ক্ষেত্রে আমরা আগের প্রান্তিকের তুলনায় একই রকম প্রবৃদ্ধি দেখলেও, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.১% কমেছে, যা অপেক্ষাকৃত কম আয়ের প্রতিফলন। তবে আশার কথা হলো, আমরা ৫৮% ইবিআইটিডিএ মার্জিন বজায় রাখতে পেরেছি যা  যথেস্ট ভাল; এটি প্রমাণ করে যে রাজস্বের চাপ থাকা সত্ত্বেও সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনা আয় সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করছে। আগের তিনটি প্রান্তিকের তুলনায় এনপিএটি বেড়েছে, যা কার্যক্ষমতার ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের আকর্ষণীয় রিটার্ন দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির সাথে সংগতি রেখে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের জন্য ১০০% পে-আউট রেশিওসহ প্রতি শেয়ারে ১০.৫০ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্যাশ ফ্লো তৈরি করছি, ঋণমুক্ত ব্যালেন্স শিট বজায় রাখছি এবং মূলধন বরাদ্দে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করছি; যা আমাদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখছে।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13903 ,   Print Date & Time: Monday, 7 September 2026, 06:43:07 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh