![]()
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব দাবি জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের বিচার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যাতে পুনরায় ক্ষমতায় এসে গুম, খুন ও দমন-পীড়ন চালাতে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেরও দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থান নয়, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণকারী সবাইকে তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
নুরুল হক দাবি করেন, প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র এবং ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী বিতর্কিত সরকারের নীলনকশার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পিলখানা বিদ্রোহের নামে মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল। তার দাবি, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী যখনই জনবান্ধব অবস্থান নিয়েছে, তখনই জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পাশাপাশি ইসলামপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর শাপলা চত্বরে নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সে সময় এ ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশ্যে উল্লাসও করা হয়েছিল।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তার মেরুদণ্ডের একটি হাড় বাঁকাভাবে জোড়া লেগেছে। এরপরও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, উদারভাবে দেশ পরিচালনা এবং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এর দায় সে সময় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকেই বিপ্লবী বক্তব্য দিচ্ছেন, অথচ তারা দীর্ঘ ১৮ মাস সরকারের অংশ ছিলেন। কিন্তু ওই সময়ে আহতদের ক্ষতিপূরণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি আহতদের তালিকা প্রণয়নেও নানা ধরনের অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।